রক্তনালীর ব্লক সমস্যা ও অ্যানজিওপ্লাস্টি

  • পোস্ট করা হয়েছে অক্টোবর ২২শে, ২০১৮

সমস্ত শরীরে জালের মত ছড়িয়ে আছে রক্তনালী বা রক্ত চলাচলের মসৃণ রাস্তা । এর মধ্যে বিশুদ্ধ রক্ত যাতায়াতের রাস্তাকে ধমনী আর দূষিত রক্ত যাতায়াতের রাস্তাকে শিরা বলা হয় । বিভিন্ন কারনে রক্তনালীর গায়ে চর্বি জমে রক্তনালী ব্লক হয়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে । কোনরূপ কাটাছেঁড়া না করে রক্তনালীর ব্লক দূর করার নামই অ্যানজিওপ্লাস্টি (Angioplasty)স্টেন্ট বা রিং বসিয়ে অ্যানজিওপ্লাস্টি করা হয় । এগুলো রক্তনালীর রোগ (Peripheral Vascular Disease)।

কি কি কারনে রক্তনালী বন্ধ হতে পারে ?

  • ধূমপান
  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • রক্তে অতি মাত্রায় চর্বি
  • এর মধ্যে ধূমপান বর্জন যোগ্য । আর অন্য গুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য । ধূমপান ত্যাগ করার জন্য আপনার ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট ।

 

রক্তনালীর ব্লক- এ কি কি সমস্যা হয় ?

  • হাঁটলে পায়ে ব্যাথা হয়, বিশ্রাম নিলে কিছুটা কমে যায় ।
  • রোগের তীব্রতা বাড়লে বিশ্রামরত অবস্থায়ও পায়ে ব্যাথা হতে পারে ।
  • পায়ে ঘা ।
  • পায়ে পচন বা গ্যাংরিন । (Gangrene)

 

চিকিৎসা না করালে শেষ পরিণতি ?

পা পচে গেলে তা কেটে (Amputation) ফেলে দেয়া ছাড়া আর উপায় থাকে না । আমরা সচরাচর যেসব পঙ্গু লোক দেখতে পাই তাদের একটি বিরাট অংশ রক্তনালীর ব্লক জনিত পচন রোগে আক্রান্ত ।

 

কিভাবে রক্তনালীর ব্লক নিরুপন করা যায় ?

  • রোগীর উপসর্গ থেকে
  • হাত-পায়ের পালস বা নাড়ী পরীক্ষা করে
  • কম্পিউটারে ডপলার পরীক্ষার মাধ্যমে
  • অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে (Angiogram)

 

রক্তনালীর ব্লক অপসারনের উপায় কি ?

এই রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞ হচ্ছেন ভাসকুলার সার্জন বা রক্তনালীর বিশেষজ্ঞগন (Vascular Surgeon)। রোগীর উরু ও পেটের সংযোগস্থলে কুঁচকিতে স্থানীয়ভাবে অবশ করে ব্যাথামুক্ত অবস্থায় এক্তা সুঁই ঢুকানো হয় (অনেকটা স্যালাইন দেওয়ার মত) । পরবর্তীতে এক ধরনের ইঞ্জেকশন পুশ করে ছবি তোলা হয় । ছবিতে ব্লক ধরা পরে এটাই হলো অ্যানজিওগ্রাম (Angiogram)।

অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে ব্লকের সঠিক স্থান (পেটের মধ্যে, উরুতে, পায়ে, বুকের মধ্যে বা হাতে) এবং মাত্রা বা বিস্তৃতি নির্ণয় করা যায়।

রক্তনালীর ব্লক অপসারনের পদ্ধতিকে বলা হয় অ্যানজিওপ্লাস্টি (Angioplasty) । অ্যানজিওগ্রাম করার সময় সরু বা বন্ধ রক্তনালী প্রথমে বেলুন দিয়ে মতা করা হয় । তারপর উক্ত স্থানে একটা রিং বা আংটি বা স্টেন্ট (Stent) বসিয়ে দেয়া হয় । ফলে রিং এর মধ্যে দিয়ে রক্ত চলাচল করতে পারে ।

এছাড়া কাটাছেঁড়া করে রক্তনালীর বল্ক এর স্থানে জমে থাকা চর্বি পরিষ্কার করে অথবা বাইপাস অপারেশনের (Bypass Surgery) মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ নিশিত করা হয় ।

রিং বা স্টেন্ট কি ?

এটা ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি এক ধরনের পাইপ । বিভিন্ন সাইজের রক্তনালী অনুযায়ী এটা বিভিন্ন সাইজের তৈরি করা যায় । এটা এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে রক্তনালীতে বসিয়ে দেওয়ার পর সুন্দরভাবে রক্তনালীর গায়ে লেগে থাকে ।

রিং বসানোর সময় রোগী কি ব্যাথা পায় ?

কুঁচকি স্থানীয়ভাবে অবশ করার ফলে রোগীর ব্যাথা পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায় ।

 

রিং বসানোর সুবিধা কি কি ?

  • কাটাছেঁড়ার দরকার হয় না ।
  • পূর্ণ অবশ (জেনারেল/রিজিওনাল অ্যানেথেসিয়া) করার দরকার হয় না ।
  • হাসপাতালে কম সময় থাকতে হয় ।
  • রিং বসানোর পুরো প্রক্রিয়া রোগী নিজে বা তার আত্মীয়স্বজনেরা মনিটরের মাধ্যমে অবলোকন করতে পারে ।
  • কাটাছেঁড়ার চেয়ে অনেক কম সময়ে রিং বসানো যায় ।
  • ইনফেকশন সম্ভাবনা কম থাকে ।

রিং বা স্টেন্ট ব্লক হতে পারে কি না ?

আল্লাহর দেয়া রাস্তা বন্ধ হলে বান্দার সৃষ্ট রাস্তাও বন্ধ হতে পারে । পুনরায় ব্লক হলেও ভয় নেই । কারন সেটাও বেলুন দিয়ে মোটা করা যায় । এমনকি রিং বসানো বা স্টেন্টিং করাও সম্ভব হয় । রক্তনালীর বন্ধ হওয়া জনিত সমস্যায় অ্যানজিওপ্লাস্টি (Angioplasty) কিৎসা সম্পর্কে আমাদের ধারনা কম থাকায় অনেক সময় আমরা অপচিকিৎসার শিকার হই অথবা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হই । ফলে অকালে অঙ্গহানির শিকার হতে পারি ।

লেখক
ডাক্তার

Askdoctor Info Desk

আপনি আরও দেখতে পারেন
ডাক্তার