ডাউন সিনড্রোম কি?

  • পোস্ট করা হয়েছে সেপ্টেম্বর ১৭ই, ২০১৮

আমাদের কোষের মধ্যকার ক্রোমোজোমের ভেতরের ডিএনএকে বলা হয় বংশগতির ধারক ও বাহক। আমাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন আচার, আচরণ, বুদ্ধিমত্তা, চেহারা, উচ্চতা, গায়ের রং সবকিছুই এই ডিএনএর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ডিএনএ বা ক্রোমোজোমের অসামঞ্জস্য হলে শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি দেখা দেয়। এগুলো হলো জেনেটিক ত্রুটি। আমাদের দেশে কোনো কোনো শিশুর কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় যেমন: মাংসপেশির শিথিলতা, কম উচ্চতা, চোখের কোনা ওপরের দিকে ওঠানো, চ্যাপ্টা নাক, ছোট কান, হাতের তালুতে একটি মাত্র রেখা, জিব বের হয়ে থাকা ইত্যাদি। এগুলো ডাউন সিনড্রোম।

শরীর গঠনের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অংশকে কোষ বা সেল (Cell) বলা হয়। প্রতিটি মানব কোষের মধ্যে ২৩ জোড়া ক্রোমোজম (Chromosome) নামের অঙ্গানু থাকে, যার অর্ধেক আসে মায়ের কাছ থেকে আর অর্ধেক আসে বাবার কাছ থেকে। কোটি কোটি ডিএনএ (DNA)-এর সমন্বয়ে এক-একটি ক্রোমোজম তৈরি হয়। ডাউন সিনড্রোম হলে আর একটি বাড়তি ক্রোমোজম ২১ নম্বর ক্রোমোজমের জায়গায় ঢুকে পড়ে৷ যাকে ‘ট্রাইসোমি ২১’ বলা হয়৷ ৯৫ শতাংশ ডাউন সিনড্রোমই এই কারণে হয়ে থাকে বলে গবেষকরা মনে করেন৷ ২১ নম্বর ক্রোমোজম তিনটি থাকে বলে ২১/৩ বা একুশে মার্চ বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস পালিত হয়। আর এ অতিরিক্ত ক্রোমোজমটির কারণে ডাউন শিশুর বিশেষ কিছু শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।

ঠিক কি কারণে মায়ের গর্ভে ডাউন শিশুর জন্ম হয় তা সম্পূর্ণ জানা যায়নি। অনেকেই মনে করেন যে শুধুমাত্র বয়স্ক নারীরাই ডাউন সিনড্রোম এ আক্রান্ত শিশুর জন্ম দেন। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। যে কারও শিশুই ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত হতে পারে, তবে বয়সের সাথে সাথে ঝুকি বাড়তে থাকে। মায়ের বয়স যত বাড়বে শিশুর ডাউনস সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে।যেমন ২০ বছর বয়সের প্রতি ১৬০০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে ১ জনের, ২৫ বছর বয়সের প্রতি ১৩০০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজনের, ৩০ বছর বয়সের প্রতি ১০০০ জন মায়ের মধ্যে একজনের ডাউন শিশু হতে পারে। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সের পর ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকে। ৩৫ বছর বয়সের প্রতি ৩৫০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজনের এবং ৪০ বছর বয়সের প্রতি ১০০ জন মায়ের একজনের ডাউন শিশু হতে পারে।

অধিক বয়সের মায়ের গর্ভে ডাউন শিশু হবার সম্ভাবনা বাড়লেও যেহেতু যুবতী বয়সেই বেশীরভাগ নারী মা হয়ে থাকেন তাই যুবতী বয়সের মায়েদের মধ্যেই ডাউন শিশু সচরাচর দেখা যায়। তার মানে যে কোন বয়সের মায়ের ডাউন শিশু হতে পারে।

অন্যদিকে কোন মায়ের আগে একটি ডাউন শিশু থাকলে পরবর্তীতে ডাউন শিশু হবার সম্ভাবনা বাড়ে। পরিবেশ দূষণ, গর্ভবতী মায়ের ভেজাল খাদ্যে ও প্রসাধনী গ্রহণ, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি কারণেও ডাউন শিশুর জন্ম হতে পারে বলে ধারনা করা হয়। অনেক সময় বাবা-মা ত্রুটি যুক্ত ক্রোমোজমের বাহক হলে তাদের  সন্তানও ডাউন শিশু হতে পারে। যদি বাহক বাবা হন তবে সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকে ৩% আর মা হলে তা বেড়ে হয়ে যায় ১২%।

ডাউন সিনড্রোমের নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, জটিলতা দেখা দিলে তার চিকিৎসা করতে হয়। তবে আগে থেকে রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা কম হয়।

 শিশুর রক্তের ক্রোমোজোম সংখ্যা বা ক্যারিওটাইপিং পরীক্ষার মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম নিশ্চিত হওয়া যায়। গর্ভাবস্থার ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক গর্ভফুল হতে কোষকলা সংগ্রহের মাধ্যমে অথবা ১৫ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভের বাচ্চার চারপাশের তরলের ডিএনএ পরীক্ষা করে গর্ভের বাচ্চাটি ডাউন শিশু কি না, তা নিশ্চিত করা যায়। তারপর বাবা-মা গর্ভাবস্থা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 

লেখক
ডাক্তার

Askdoctor Info Desk

আপনি আরও দেখতে পারেন
ডাক্তার