হার্টের সুস্থতায় ঘুম

  • পোস্ট করা হয়েছে অক্টোবর ১৭ই, ২০১৮

সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান বর্জন করলেই কি হার্ট অ্যাটাককে ঠেকানো যাবে? সুস্থ থাকার জন্য ঘুম খুব জরুরি। তবে এই ঘুম হতে হবে যথাযথ। বিভিন্ন বয়সে ও মানুষভেদে বিভিন্নজনের প্রয়োজনীয় ঘুমের সময় আলাদা হতে পারে; কিন্তু পুরো শারীরিক প্রক্রিয়াকে সচল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে হবে।  গবেষকেরা বলছেন, বর্তমানে মানুষের ঘুমের সময় কমে আসছে। কাজের চাপ, টেলিভিশন, কম্পিউটার আর মুঠোফোন মানুষের ঘুমের সময় গড়ে দিনে তিন ঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে শরীরের বিপাক ক্রিয়ার ওপর। ফলে বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি (৬ ঘণ্টার কম ঘুম)। আবার অতিরিক্ত ঘুমও (৯ ঘণ্টার ওপর) ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষকেরা বলছেন, ঘুমের মধ্যে আমাদের হৃৎস্পন্দন, রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা ও হৃদ্‌যন্ত্র, মস্তিষ্কের কর্মকাণ্ডে নানা ধরনের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে। ঘুমের সময়টাতে আপনি জেগে থাকলে তাতে ছন্দপতন ঘটে। দেহঘড়ির কাজ ব্যাহত হয়। এর বিরূপ প্রভাব পড়ে রক্তসংবহনতন্ত্রের ওপর। আদিকাল থেকে সূর্যাস্তের পর রাত নামলে মানুষের ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস। এটাই স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। এ কারণেই সম্প্রতি আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সুস্থ হার্ট পেতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি জোর দিয়ে রাতে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের কথা বলেছে।স্লিপ এপনিয়া হার্টের সুস্থতার জন্য অন্তরায়। স্লিপ এপনিয়া হলো বার বার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া। এ সমস্যায় আক্রান্ত মানুষ গভীর নিদ্রায় যেতে পারে না। আর সুস্থ হার্টের জন্য নির্বিঘ্ন গভীর নিদ্রা জরুরি। তাই সুস্থ হার্টের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে সুনিদ্রা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ হার্ট আমাদের বাঁচার জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

রাত জাগা, দেরি করে ঘুমানোর অভ্যাস, ঘুমের সময় নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র ও ডিভাইস ব্যবহার ইত্যাদি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। অফিসের কাজ বাড়িতে বয়ে আনবেন না, রাতে ফাইল বা কম্পিউটারে অফিসের কাজ করবেন না। শোবার ঘরে তো নয়ই। শোবার ঘরকে কেবল ঘুমের জন্যই ব্যবহার করবেন। ঘুমানোর আগে মস্তিষ্ক উত্তেজিত করে এমন কাজ (যেমন টিভি দেখা, ফেসবুক ব্যবহার ইত্যাদি) করবেন না।

লেখক
চিকিৎসক, ভাস্কুলার সার্জন

ডাঃ একেএম জিয়াউল হক

আপনি আরও দেখতে পারেন
ডাক্তার